হুয়াওয়েকে বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনের আমন্ত্রণ জানালেন পলক

১৯ অক্টোবর, ২০২২ ১৭:৩৯  
হুয়াওয়ে আইসিটি ইনকিউবেটর ২০২২ প্রোগ্রামে বাংলাদেশের বিজয়ী ছয় স্টার্টআপের নাম ঘোষণা করেছে হুয়াওয়ে বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতায় ‘আইডিয়া স্টেজ’ ও ‘আর্লি স্টেজ’ – এই দু’টি গ্রুপ থেকেই তিন জন করে বিজয়ী নির্বাচিত করা হয়েছে। আইডিয়া স্টেজে নসিউরকাউ এবং আর্লি স্টেজে  জাহাজি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এছাড়াও  ‘আইডিয়া স্টেজ’(Idea Stage)  দুর্জয় ডিএসএস (প্রথম রানার্স আপ) ও রিল্যাক্সি (দ্বিতীয় রানার্স আপ)। এবং আর্লি স্টেজে (Early Stage) পালকি (প্রথম রানার্স আপ) ও উইগ্রো টেকনোলোজিস লিমিটেড (দ্বিতীয় রানার্স আপ)।
বুধবার রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে চ্যাম্পয়নদের নাম ঘোষণা করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি)  প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সাধারণ গাণিতিক সল্যুশনের পরিণত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,  চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে বিকাশমান প্রযুক্তির সমাধানগুলোই অর্থনীতির চালিকা শক্তিতে পরিণত হবে। গণিত ছাড়া আমরা কিছুই করতে পারবো না। কৃত্রিমবুদ্ধিমত্তা ছাড়া আগামীতে ব্যবসায় করা কঠিন হয়ে পড়বে। রোবটিকস ও ডেটা এনালিটিক্স দক্ষতা ছাড়া কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কার্যক্রম চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী প্যান জুনফেং-কে সম্বোধন করে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাময়ী বাজার হিসেবে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি আশা করবো হুয়ায়েও যেনো বাংলাদেশে তাদের অ্যাসেম্বেল প্লান্ট স্থাপন করে। তারা যদি বাংলাদেশে ল্যাপটপ তৈরি করে তবে আমরা তা সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভূক্ত করতে সহজ হবে। পলক বলেন, হুয়াওয়ের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বে গত ১৩ বছরে আইসিটি বিভাগ তিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে। ২০১৪ সালে আমরা ইনফো সরকার ২ প্রকল্প বস্তাবয়ন করে ১৮ হাজার সরকারি অফিসকে ইন্ট্র গভ নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করেছি যা করোনায় দেশের রাষ্ট্রীয় কাজ সচল রাখতে যুগান্তকরি ভূমিকা পালন করেছে। ইনফো সরকার ৩ প্রকল্পের অধীনে ২ হাজার ৬০০ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারকে ফাইবার ইন্টারেনেট সংযুক্ত করেছি। যার বদৌলতে শেরপুরের নালিতাবাড়িতে বসে ছেলে-মেয়েরা আয় বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারছে। এটাই ডিজিটাল রূপান্তরের সৌন্দর্য। এছাড়াও, অনুষ্ঠানে আরও উপস্থতি ছিলেন চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং,  ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ভিনসেন্ট চ্যাং, পিএইচ.ডি., স্টার্টআপ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামি আহমেদ ও আইসিটি বিভাগের বিসিসি’র প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. আলতাফ হোসেন। এই আয়োজনে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড এবং ইনোভেশন ডিজাইন অ্যান্ড এন্টারপ্রিনিউরশিপ একাডেমির (আইডিয়া) সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আইসিটি অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। চ্যাম্পিয়ন স্টার্টআপ পুরস্কার হিসেবে পাবে ৫ লাখ টাকা এবং ১ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার সমমূল্যের হুয়াওয়ে ক্লাউড ক্রেডিট। অন্যদিকে প্রথম ও দ্বিতীয় রানার্স আপ পাবে যথাক্রমে ৩ লাখ ও ১ লাখ টাকা প্রাইজ মানি এবং ৮০ হাজার মার্কিন ডলার সমমূল্যের হুয়াওয়ে ক্লাউড ক্রেডিট। এছাড়াও, প্রত্যেক স্টার্টআপের একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা দেশের বাইরে সফল স্টার্টআপের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করা সুযোগ পাবেন। প্রোগ্রামের জন্য প্রায় ১৮০ জন অংশগ্রহণকারী আবেদন করেন। ‘আইডিয়া স্টেজ’ ও ‘আর্লি স্টেজ’ এই দু’টি গ্রুপে ভাগ করে মোট ৬৮টি স্টার্টআপকে ইনকিউবেটর বুট ক্যাম্পে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত করা হয়। বুট ক্যাম্পে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে, অংশগ্রহণকারীরা তাদের স্টার্টআপ সংক্রান্ত আইডিয়া (ধারণা) বিচারক প্যানেলের সামনে উপস্থাপন করেন। বিচারক প্যানেলের রায়ের ভিত্তিতে, উভয় পর্যায় থেকে মোট ২০টি স্টার্টআপকে চূড়ান্ত পর্যায়ের জন্য ফাইনালিস্ট হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। পরিশেষে, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আইডিয়া স্টেজ থেকে ৩টি ও আর্লি স্টেজ থেকে ৩টি সহ মোট ছয়টি স্টার্টআপকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এসময় বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং অনুষ্ঠানে বলেন, “চীন ও বাংলাদেশ সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে কাজ করে। সাম্প্রতিক সময়ে, চীনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ অবকাঠামো, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে তাদের বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছে। এসব খাতের মধ্যে আইসিটি খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময়। আমি আত্মবিশ্বাসী, এ দুই দেশ আরও ভালোভাবে আইসিটি খাতে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে পারবে এবং আমার মনে হয় চীন ও বাংলাদেশ উভয়ই এর সুফল পাবে।” অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ভিনসেন্ট চ্যাং বলেন, “হুয়াওয়ের মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তরুণদের সত্যিকার অর্থেই ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করছে, এটা দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।” স্টার্টআপ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামি আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের উন্নতি হচ্ছে। স্টার্টআপ বাংলাদেশ ‘আর্লি স্টেজ’ ও ‘আইডিয়া স্টেজ’র স্টার্টআপগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করার মাধ্যমে একটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। হুয়াওয়ে আইসিটি ইনকিউবেটর প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য তরুণ স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য সুবিধা নিশ্চিত করা যা আমাদের লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।” আইডিয়া প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও যুগ্মসচিব মো: আলতাফ হোসেন বলেন, “দ্রুত পরিবর্তনশীল এই বিশ্বে তরুণরা দক্ষতা ও জ্ঞানের সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এমন বাস্তবতায় তরুণদের নেতৃত্বে একটি উদ্ভাবনকেন্দ্রিক সংস্কৃতি বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে। এমন চমৎকার একটি উদ্যোগে হুয়াওয়ের সাথে কাজ করতে পেরে আমরা আনন্দিত।” হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী প্যান জুনফেং বলেন, “বিগত ২৩ বছর ধরে হুয়াওয়ে আইসিটি খাত, টেলিকম অপারেটর ও স্থানীয় অংশীদারদের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের তরুণদের ক্ষমতায়নে, প্রশিক্ষণে এবং তাদের জন্য অভাবনীয় সব সুযোগ তৈরিতে আমাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই অংশ এই হুয়াওয়ে আইসিটি ইনকিউবেটর প্রোগ্রাম। এ কর্মসূচিজুড়ে অংশগ্রহণকারীরা খাত বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জানার সুযোগ পেয়েছেন এবং তাদের ধারণাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে ব্যবসা সম্পর্কিত জ্ঞান ও কারিগরি জ্ঞান অর্জন করেছেন।”